Rajshahi
September 29th, 2020
Business / শিল্প-বাণিজ্য
থমকে আছে রাজশাহীর পাদুকা ব্যবসার সম্প্রসারণ
May 19th, 201311,097 views

নগরীর লক্ষ্মীপুরে একটি ছোট জুতার কারখানা রয়েছে বাবু দাসের। তিনি বলেন, ‘আমাদের তৈরি জুতা যারা ব্যবহার করেন, তারা নিয়মিতই আমাদের কাছ থেকে জুতা কিনেন। আমরা চামড়া দিয়ে জুতা বানাই। কিন্তু পুঁজি স্বল্পতার কারণে ব্যবসা বড় করতে পারছি না। নিজেদের চেষ্টায় আমাদের এত দূর আসা।’

 

বাবু দাসের কারখানায় তিনিসহ আরো চারজন কর্মচারী কাজ করেন। ডিজাইনের ক্ষেত্রেও অনুসরণ করা হয় হাল ফ্যাশন। যে কারণে তাদের পণ্যের চাহিদা ভালো। নগরজুড়ে এমন উদ্যোক্তা রয়েছেন ২০ জন। যারা নগরীর লক্ষ্মীপুর, স্টেশন ও কাদিরগঞ্জ এলাকায় কারখানা প্রতিষ্ঠা করে কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

 

এলাকার প্রবীণ উদ্যোক্তা নানকা দাস বলেন, ৫০ বছর ধরে তিনি এ কাজ করছেন। প্রথম অবস্থায় রাস্তায় জুতা সেলাইয়ের কাজ করতেন। পরে একটি ছোট কারখানা দেন। এখন ১০ জন কারিগর কাজ করে তার লিটন সু ফ্যাক্টরিতে। রাজশাহী ও এর বাইরে প্রায় ৫০ জন জুতার পাইকারি ক্রেতা তার কাছ থেকে জুতা ও স্যান্ডেল নেন। সবচেয়ে ভালো বিক্রি হয় দুই ঈদে। তিনি জানান, এ উদ্যোগে সবচেয়ে বড় সমস্যা ঋণ না পাওয়া। ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ না পাওয়ায় স্থানীয় এনজিও মানব মুক্তি সংস্থা হয়ে উঠেছে একমাত্র ভরসা। গত বছর এ সংস্থা থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ পেয়েছেন। ১২ শতাংশ সুদসহ তা শোধ করেছেন। এখানে বড় অঙ্কের ঋণ পাওয়া যায় না বলে জানান তিনি।

 

আরেক উদ্যোক্তা মানিক দাসের কারখানায় কর্মচারী তিনজন। তিনি যে পণ্য তৈরি করেন তা এখানেই বিক্রি করেন। বাইরে বাকিতে পাইকারদের কাছে পণ্য বিক্রি করলে টাকা উদ্ধার করতে খুব সমস্যায় পড়তে হয়। যে কারণে এখন নিজের দোকানেই জুতা ও স্যান্ডেল বিক্রি করেন। কি ধরনের জুতা-স্যান্ডেল তারা বিক্রি করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, মানুষ এখন চীনা স্যান্ডেলের প্রতি বেশি আগ্রহী। যে কারণে তারা এ জাতীয় জুতা-স্যান্ডেল তৈরি করেন। তাদের তৈরি জুতা-স্যান্ডেল চীন থেকে আসা পণ্যের চেয়ে টেকসই বলে দাবি করেন তিনি। এখানে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা দামের স্যান্ডেল ও ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে জুতা পাওয়া যায়।

 

রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সম্পাদক সেকেন্দার আলী জানান, এ উদ্যোক্তাদের প্রধান সমস্যা তারা অসংগঠিত। তাদের সমস্যা নিরসনে সংগঠন গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। তারা কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও সফল হননি। তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) তাদের একবার ঋণ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। পরে কী কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি।

 

’ তবে এখানকার কারিগরদের তৈরি জুতা মানসম্পন্ন বলে তিনি জানান। যেসব ব্যাংক বা এনজিও এসএমই ঋণ দেয় তাদের উচিত তৃণমূলের  এ উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা। এদের অধিকাংশই নিরক্ষর। তাদের সেবা দিতে হলে এ বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। তবে সহায়তা পেলে তারা খুব ভালো করবে বলে আশা প্রকাশ করেন সেকেন্দার আলী।