Dhaka
October 21st, 2018
Sports / খেলা
বাংলাদেশের প্রথম সোনা
November 26th, 20103,193 views

শিয়ান গেমসে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ১৯৭৮ সালে এশিয়ান গেমসে অভিষেক হওয়ার পর এই প্রথম বাংলাদেশ সোনা জয়ী দেশগুলোর কাতারে নিজেদের নাম তুলতে সক্ষম হলো। ৩২ বছরের চেষ্টায় সেই স্বর্ণ এসেছে পুরুষদের ক্রিকেট থেকে। গতকাল শুক্রবার গোয়াংগং ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গেমস ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টির ক্রিকেটের ফাইনালে আফগানিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে বিরল সাফল্যের নজির গড়ে বাংলাদেশ। এর আগে মহিলা ক্রিকেটে রোপ্য এবং মহিলা কাবাডিতে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। পদকের তালিকায় এবারেই বাংলাদেশের পালস্না ভারি। এর আগের আসরে তাদের ভান্ডারে সর্বোচ্চ পদক ছিল ২টি রোপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ।

এশিয়ান গেমসে এই প্রথম ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, ভারতের অনুপস্থিতিতে শুধু দুই শক্তিধর পাকিস্তান ও শ্রীলংকা অংশ নেয়ায় দেশ ছাড়ার আগেই মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বাধীন দলটির টার্গেট ছিল ফাইনাল খেলা। শেষ পর্যন্ত দুর্বল আফগানিস্তানকে ফাইনালে পেয়ে ৫ উইকেটের জয় ছিনিয়ে নিল তারা। তবে আফগান দলটিকে যতটা সহজ ভাবা হয়েছিল ফাইনাল তত সহজ হয়নি। ম্যাচে ছিল টান টান উত্তেজনা।

টসে জিতে আফগানরা ব্যাট করে ১১৮ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে তোলার পর জয় পেতে আশরাফুলদেরও বাধা পার হতে হয়েছে। শেষ পাঁচ ওভারে ৪৩ রানের প্রয়োজন থাকলেও ক্রিজে থাকা নাঈম ইসলাম ও সাবি্বর রহমানের কাছে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে হয়েছে। অবশেষে সেই দম বন্ধ করা অনুরাগিদের চাপ মুক্ত করেন সাবি্বর রহমান। এ বছর দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দলের বিপক্ষে সিরিজ সেরা হওয়া এই ব্যাটসম্যানের উপর ভর করে বাংলাদেশ গেমস ইতিহাসে প্রথম সোনা জিতে। তবে পাশাপাশি নাঈম ইসলামের ব্যাটিংও দলের জয় পেতে সহায়তা করেছে। অথচ, ১১৯ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে নাজিমুদ্দিনের এলোমেলো শট এবং অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের বোকামি ভরা শট দলকে কিছুটা বিপদের মুখেই ফেলে দেয়। দলের সাথে চীনে যাওয়া ডেলিগেট জালাল ইউনুস টেলিফোনে এ প্রসংগে জানান, আসলে খেলোয়াড়রা যা কিছুই করুক না কেন জয়ের পর সেই ভুলগুলো মাথায় আসে না। তাছাড়া পাকিস্তানের সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার

রশিদ লতিফের অধীনে প্রস্তুত হওয়া আফগানিস্তানের বোলিংও অন্যদের তুলনায় বেশ ভালো। আফগান বোলারদের সামলাতে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে মোঃ মিথুন, নাঈম, ফয়সালদের। লাইন লেংথ ঠিক রেখে তারা বল করায় চড়াও হয়ে ব্যাট করতে পারেননি। এ কারণে শেষের দিকে বাংলাদেশের ওভার প্রতি রান রেটও বেড়ে যায়। শেষ দুই ওভারে যখন ২০ রান প্রয়োজন সে সময় বল হাতে আফগান করিম সাদিক ক্রিজে এলে ভালই জবাব দেন সাবি্বর। সে ওভারে দুই ছয়সহ ১৫ রান নিলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন হয় ৫ রানের। আর নাঈম জয় সূচক রান করে গোয়াংগং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে মাতিয়ে তুলেন।

এ বছর ওয়ানডে অভিষেক হওয়ার পর থেকে আফগানিস্তান সাফল্যের ঘোড়ায় চড়ে বেড়াচ্ছে। ৮টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে যার ৪টিতে জয় পেয়েছে। এছাড়া এশিয়ান গেমসে সেমিফাইনালে শক্তিশালী পাকিস্তানকে ২২ রানে হারিয়ে সাফল্যের আরেক ধাপ এগিয়ে যায় তারা। তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার কাছেই হার মানতে হয় তাদের।

গতকাল সকালে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে কিছুটা চাপে থাকলেও সেই চাপকে জয় করে ১১৮ রানের বড় স্কোর সংগ্রহ করে আফগানরা। বাংলাদেশের কোন বোলারই স্বাচ্ছন্দভাবে বল করতে পারেননি। অধিনায়ক একাধিক বোলার পরিবর্তন করেও তাদের অলআউট করতে ব্যর্থ হয়েছেন শাহাদাত, নাজমুল, নাঈম, নাসিররা। প্রথম ওভারে নাজমুল ভালো বল করলেও দ্বিতীয় ওভার থেকে এলোমেলো জায়গায় বল ফেলেন। এছাড়া দুর্বল ক্যাপ্টেন্সির জন্যও আফগানিস্তানের স্কোরও ১১৮ রানে পেঁৗছে। বিশেষ করে শেষ ওভারটি শাহাদাতের হাতে ছেড়ে দেয়ায় সে ওভারেই প্রতিপক্ষরা ১৫ রান তুলে ফেলে। এ প্রসংগে জালাল ইউনুস বলেন, অধিনায়ক ভেবেছিলেন, সেস্না বলে আরো বেশি চড়াও হবে তারা। কিন্তু হিসাব উল্টো হয়ে গেছে। তারপরও জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছি এটিই আমাদের আনন্দ।

ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকলেন আশরাফুল, এশিয়ান গেমসে প্রথম স্বর্ণ জিতে চীনের গোয়াংগং স্টেডিয়ামে শুধু নিজেদের মাথা উঁচু করেননি ক্রিকেটাররা, সঙ্গে বাংলাদেশের সামগ্রিক সাফল্যকেও অনেক দূর এগিয়ে তারা। ক্রিকেট ইভেন্ট থেকেই বাংলাদেশ পেল দুইটি পদক। আগামী এশিয়ান গেমসেও ক্রিকেটই বাংলাদেশকে আরো সামনে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যাশা সবার।