Rangpur
June 22nd, 2018
মাটি ও মানুষের কৃষি
মাটির টানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী
January 25th, 20134,854 views

মাটির টানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী


 

মইনউদ্দিন আহমেদ

কীভাবে হয় খাদ্যশস্যের উৎপাদন ? কীভাবে চলে কৃষকের দিন ? তাদের বঞ্চনার জায়গাগুলো কোথায় ? বাংলাদেশের কৃষি এখন ঠিক কোন জায়গায় আছে ? একবারে এসব তথ্য বিভিন্ন মাধ্যম থেকেই পাওয়া সম্ভব। কিন্তু সম্ভব নয় কৃষকের জীবন উপলব্ধি। সম্ভব নয় কৃষকের জায়গা থেকে এই বাংলাদেশকে দেখা। এর জন্য প্রয়োজন কৃষকের জীবন ধারণ করা। নগরকেন্দ্রিক সব মানুষের জন্যই প্রযোজ্য এ কথা। বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, মাটির সঙ্গে যাদের যোগাযোগটা কম। জন্ম থেকেই শহুরে জীবন, তথ্য প্রযুুক্তি আর আধুনিক সংস্কৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা। আজকের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উচিৎ গ্রামে যাওয়া। কৃষকের প্রতিদিনের জীবনচিত্রের সঙ্গে নিজেদেরকে কয়েকদিনের জন্য হলেও মিলিয়ে দেখা। এই চিন্তা থেকেই কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ চ্যানেল আইতে তার কৃষি বিষয়ক কার্যক্রম হূদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকে এবার ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চার শিক্ষার্থীকে নিয়ে যান নরসিংদীর প্রত্যন্ত গ্রামে। টানা তিনদিন ওই চার ছাত্রকে দিতে হয় কৃষকের প্রাত্যহিক জীবন সংগ্রামের কঠিন পরীক্ষা। এ কার্যক্রমটির নাম দেয়া হয়েছে 'ফিরে চল মাটির টানে'। শহুরে নাগরিকদের আমাদের খাদ্য উৎপাদনের মূল ক্ষেত্রে ফিরিয়ে নেয়ার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই সাড়া ফেলেছে গোটা দেশে। দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষিজীবী জনগোষ্ঠি থেকে শুরু করে শহরের সাধারণ নাগরিকরাও এ খবর জেনে নতুনভাবে আশান্বিত হয়েছেন। গ্রাম ও শহরের মধ্যকার ব্যবধান, কৃষক ও শহরের নাগরিকদের যে দূরত্ব তা বোধ হয় এবার ঘুঁচতে শুরু করবে।

ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই চার ছাত্র হচ্ছেন ওয়ালিউল ইসলাম নাহিদ, এস এম মাশুক ইমতিয়াজ, নিশাত ফাহমিদ ভূইয়াঁ ও রিয়াদ মোহাম্মদ নূর। তারা সবাই ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে পড়েন। তাদের গ্রামে যাওয়া আসা একেবারেই কম। বছরে এক দুইবার যাওয়া হলেও কৃষকের মাঠের সঙ্গে যোগাযোগ নেই বললেই চলে। গতবছর ২৫ নভেম্বর তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস ক্লাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শাইখ সিরাজ আহ্বান জানান, শিক্ষাথর্ীদের গ্রামমুখি হওয়ার। বিশেষ করে কৃষকের বঞ্চনার জায়গাগুলো আবিস্কারের স্বার্থে তাদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তারা চারজনসহ প্রায় পঞ্চাশজন ছাত্র গ্রামে গিয়ে কয়েকদিনের জন্য কৃষিকাজ করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণে আগ্রহী হন। পরে কয়েক দফা বাছাইয়ের মাধ্যমে উঠে আসেন ওই চারজন। তাদের ঢাকা থেকে গ্রামের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয় ১৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে তিনটায়। হিমেল ঠান্ডার ভেতরে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার হাঁটুভাঙ্গায় কৃষি শ্রমিকের বাজারে একজন কৃষকের কাছে দিনমজুরি ভিত্তিতে তিনদিনের জন্য বিক্রি করা হয় তাদের। সেখান থেকে শুরু হয় তাদের তিনদিনের কৃষকজীবন। শাইখ সিরাজের পরিকল্পনায় এটি হূদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানের ভেতরে একটি টিভি অনুষ্ঠানের উদ্যোগ হলেও, এখানে প্রচলিত রিয়েলিটি শো'-এর মতো কোন সাজানো গোছানো কিছু ছিল না। বিভিন্নভাবে ক্যামেরা তাক করা ছিল ঠিকই, কিন্তু ওই চার ছাত্রকে তাদের প্রতিদিনের প্রচলিত জীবন ভুলে বরণ করতে হয় কৃষকের অসুবিধাময় জীবন। যেখানে ছিল না আরাম আয়েশের সুবন্দোবস্ত। ওদের থাকতে হয় কৃষকের দেয়া একটি কুঁড়েঘরে, খড় বিছিয়ে। সন্ধ্যায় ওই ডেরায় ফিরে পাক করতে হয় রাতের খাবার। তারপর আবার কাকডাকা ভোরে কুয়াশা ও শিশির মাড়িয়ে দৌড়তে হয় মাঠের দিকে। কনকনে শীতে বরফ শীতল পানিতে নেমে রোপন করতে হয় ধানের চারা, প্রস্তুত করতে হয় ধান রোপনের জমি। এই বাস্তবচিত্রগুলো নিয়েই সাজানো হয়েছে হূদয়ে মাটি ও মানুষের 'ফিরে চল মাটির টানে'র কয়েকটি পর্ব। এর প্রথম পর্ব প্রচারিত হয়েছে গতরাতে।