Khulna
April 21st, 2018
World News / বিশ্ব সংবাদ
২০ লাখ কর্মজীবীর ধর্মঘটে অচলাবস্থা যুক্তরাজ্যে
December 1st, 20116,353 views

প্রস্তাবিত পেনশন সংস্কার বিলের বিরোধিতা করে সরকারি খাতের ২০ লাখ কর্মজীবীর ধর্মঘটে অচলাবস্থা দেখা দেয় বৃটেনে। গতকাল সকাল থেকে শুরু হওয়া ২৪ ঘণ্টার এ ধর্মঘট বৃটেনের গত ৩০ বছরের ইতিহাসে নজিরবিহীন। স্কুল, হাসপাতাল, বিমান, স্থল ও নৌবন্দর এবং সরকারি অফিস আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ ধর্মঘটে যোগ দিয়েছেন। শ্রম সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সবার অংশ নেয়া এ ধর্মঘটের কারণে ৩০শে নভেম্বর বৃটেনের ইতিহাসে বিশেষ দিন হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আরও আলোচনার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, ধর্মঘটের মাধ্যমে কর্মজীবীরা কোন কিছু অর্জন করতে পারবে না। অন্যদিকে ধর্মঘটের কারণ হিসেবে কর্মজীবী সংগঠনগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পেনশন সংস্কার বিলে পেনশন দেয়ার জন্য তাদের বাড়তি অর্থ জমা দিতে জন্য চাপ দেয়া হবে। এ ছাড়া, অবসরের সময়সীমাও বাড়িয়ে দেয়া হবে। কিন্তু বৃটিশ কর্মজীবীরা পেনশনের জন্য বাড়তি অর্থ দিতে নারাজ এবং তারা আগের মতো দ্রুত অবসরে যেতে চান।

 

একই সঙ্গে তারা সর্বশেষ পে-স্কেল অনুযায়ী পেনশন পাওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর থেকেই মার্সেই টানেলে হাসপাতাল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচির সূচনা করেন। সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিল, এ ধর্মঘটের কারণে এক-তৃতীয়াংশ স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। কিন্তু এ ধর্মঘটের ফলে বন্ধ স্কুলের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে। স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্কুলগুলোও বন্ধ ছিল। ধর্মঘটের কারণে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য খাত, কর খাতের সেবা বন্ধ ছিল। সীমান্তরক্ষীরাও ধর্মঘটে যোগ দেয়ায় যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দর ও সমুদ্র বন্দরগুলোতেও সব ধরনের সেবা এবং যান চলাচল বন্ধ ছিল।

 

বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সোমবার ইউরোপের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর হিথ্রোর বিভিন্ন বিমান সংস্থা তাদের বেশ কিছু বিমানসূচি বাতিল ঘোষণা করেছিল। বৃটিশমন্ত্রী ফ্যান্সিস মাওডে এ ধর্মঘটের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, আলোচনা যখন চলছে তখন ধর্মঘট পালন করা অনৈতিক, অসময়োপযোগী এবং দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক। সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বার্মিংহাম উইমেন’স হসপিটালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মধ্যরাতের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট পালনের উদ্দেশ্যে রাস্তায় অবস্থান নেন। ওই হসপিটালের ৪০০ কর্মচারীর শ্রম ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট এবং থিয়েটার নার্স ইলেয়নর স্মিথ বলেছেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তকে আমি মোটেও হালকাভাবে নিতে পারছি না। গত ৩০ বছর ধরে আমি নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। এবারই প্রথম আমি সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে নিজের অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমে এসেছি। তিনি বলেন, আমি বেশি বেতন নয় পেনশনের আশাতেই সরকারি চাকরিতে এসেছি। এখন সেই পেনশনও ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে। পুরোপুরি ছিনিয়ে না নেয়া হলেও এর আংশিক নেয়া হচ্ছে। চ্যান্সেলর জর্জ অসবর্ন আলোচনা চালিয়ে যাবার জন্য শ্রম সংগঠনগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন এ ধর্মঘটের মাধ্যমে কোন কিছু অর্জন বা পরিবর্তন করা যাবে না।