Khulna
September 20th, 2018
Islam / ধর্মচিন্তা
ইসলাম সদাচরণের শিক্ষা দেয়
October 25th, 20134,429 views

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সদাচরণের প্রতীক। মুমিনদের অবশ্যই সদাচরণে অভ্যস্ত হতে হবে। তাদের অবশ্যই ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হতে হবে। যাকে তাকে অনুসরণ ও অনুকরণ কোনো খাঁটি মানুষের কাছ থেকে আশা করা যায় না। সমাজের সবাই খারাপ পথে চললে সে গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসানো কোনো মুমিনের কাজ হতে পারে না। সমাজের গতি যেদিকেই হোক না কেন মুমিনদের অবশ্যই ন্যায়-ইনসাফ ও সদাচরণ করতে হবে। অপর মানুষের মঙ্গল কামনা, সংঘাত এড়িয়ে চলা মুমিনদের ভূষণ হিসেবেই বিবেচিত হয়। এমনকি যুদ্ধের মতো সংঘাতময় পরিবেশেও মুমিনদের কর্তব্য হলো সংঘাত এড়িয়ে চলা যায় কিনা সে চেষ্টা করা।

 

আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন দুশমনের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত থাকাকালে সূর্য ঢলে পড়ার অপেক্ষায় ছিলেন। অতঃপর তিনি লোকদের মাঝে দাঁড়িয়ে বলেন : হে লোকেরা! তোমরা শত্রুর সঙ্গে সংঘর্ষ কামনা কর না; বরং আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও শান্তি কামনা কর। আর যখন শত্রুর মুখোমুখি হও তখন ধৈর্য ধারণ কর (অবিচল থাক)। -বুখারী ও মুসলিম থেকে রিয়াদুস সালেহীনে।

 

ইসলাম সদাচরণকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আরেকটি হাদিস তার প্রমাণ। তিনি বলেন- 'যে লোক আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে হয় ভালো কথা বলবে, নচেৎ নীরব থাকবে।' মহান আল্লাহপাক আপন কালামে পাকে বলেন : 'মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করুক না কেন, তাই লিখে (সংরক্ষণ করে) রাখার জন্য তার সঙ্গে রয়েছে সদা তৎপর প্রহরী। (একবার) হজরত ওকবা ইবনে আমের (রা.) আরজ করলেন : 'হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! কীভাবে নাজাত পাওয়া যাবে? রাসূল (সা.) বললেন : 'তোমার রসনা সংযত রাখ, তোমার বাড়িকে (পরিজনদেরকে) সুরক্ষিত রাখ। তোমার ত্রুটি-বিচ্যুতির (পাপের) জন্য কাঁদো, আর মনে রেখ, পাষাণ-চিত্তরা আল্লাহর নৈকট্য থেকে সবচেয়ে বেশি দূরে।' -আবু দাউদ, তিরমিজী।

 

আরেক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন : 'আল্লাহপাকের নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত মানুষ হচ্ছে বাচাল, অশ্লীল ও অসংযত কথাবার্তায় অভ্যস্ত ব্যক্তি।' আল্লাহ আমাদের সবাইকে সদাচরণের তওফিক দান করুন। আমিন।

 

লেখক : খতিব, আল ইসলাহ জামে মসজিদ, নারায়ণঞ্জ।

 

Source: