Dhaka
January 21st, 2018
World News / বিশ্ব সংবাদ
স্টুডেন্ট ভিসায় নতুন বিধিনিষেধ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিপাকে ফেলবে
March 26th, 20112,929 views

স্টুডেন্ট ভিসার ওপর আরোপিত নতুন বিধিনিষেধগুলো ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর মারাত্মক রকমের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে বলে এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। হায়ার এডুকেশন পলিসি ইনস্টিটিউট (হেপি)নামের একটি প্রতিষ্ঠান ঐ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে; যেখানে বলা হয়েছে যে, সরকারের নতুন পদক্ষেপের ফলে ব্রিটেনে পড়তে ইচ্ছুক বিদেশি ছাত্রদের সংখ্যা দারুণভাবে কমে যাবে এবং দেশটির বিলিয়ন বিলিয়ন পাউন্ড আয় কমে আসবে।

 

তারা সোজা সাপ্টা ভাষায় জানিয়েছে যে,এসব পরিকল্পনার প্রতি নজর দিলে মনে হয় যেন ভিসার অপব্যবহার রোধ করার চাইতে ছাত্র আগমন কমানোই এর উদ্দেশ্য। অথচ ইতোপূর্বে সরকার বলেছিল যে,

মেধাবী ও দক্ষ বিদেশি শিক্ষার্থীরা ব্রিটেনের অর্থনীতির জন্যে গুরুত্বপূর্ণ।


নতুন নেয়া পরিকল্পনায় ডিগ্রি লেভেলের নিচে অধ্যয়নরত বিদেশি ছাত্রদের সংখ্যা কমানো, ছাত্রদের ভাষাগত দক্ষতার শর্ত বৃদ্ধি এবং তাদের কাজের সুযোগ কমানো ও পরিবারকে ব্রিটেনে নিয়ে আসবার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং তাদের নজরদারির ক্ষেত্রেও পরিকল্পনায় বিশেষ কড়াকড়ি আরোপের কথা বলা হয়েছে।


পরিকল্পনার ওপর সমালোচনা করে প্রফেসর এডওয়ার্ড এ্যাকটন তার প্রতিবেদনে বলেছেন, বিদেশি ছাত্ররা ব্রিটেনের অর্থনীতিতে বছরে ৫ বিলিয়ন পাউন্ড অবদান রাখে। স্থানীয় ছাত্রদের তুলনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের খরচ অনেক বেশি।


তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন,সরকার যখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অর্থায়ন কমিয়ে দিয়েছিল তখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অদূর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ছাত্র বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। সেটি করা যদি সম্ভবপর হত,তাহলে ব্রিটেনের শিক্ষাব্যবস্থার সুনাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো ছড়িয়ে পড়ত নিঃসন্দেহে। বর্তমানে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যে হতাশাজনক হবে বলে তিনি মত দিয়েছেন।


তিনি বলেন,ডিগ্রি লেভেলের নিচের বিদেশি ছাত্রদের সংখ্যা কমানোর ফলে বছরে ১ বিলিয়ন পাউন্ড আয় কমবে এবং আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ছাত্রদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে আসবে।
তিনি জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ছাত্রদের একটা বড় অংশ তথাকথিত ‘প্রি-ইউনিভার্সিটি পাথওয়ে কোর্স’ গ্রহণ করছে যা তাদেরকে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্টাডির জন্যে প্রস্তুত করছে।


প্রফেসর এ্যাক্টন বলেন, ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ৪০ শতাংশেরও বেশি ছাত্র এখানে এসেছে ‘প্রি-ইউনিভার্সিটি পাথওয়ে কোর্স’ করবার জন্যে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন,এসব কোর্সের ৭০ শতাংশ ছাত্রঅন্তর্ভুক্তি নতুন আরোপিত ভাষাগত শর্তের কারণে বাধাগ্রস্ত হবে।


প্রতিবেদনটির পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে মি.এ্যাক্টন দাবি করেছেন যে,ভিসাসংক্রান্ত এসব পদক্ষেপ ব্রিটেনের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।


ইমিগ্রেশন মিনিস্টার ডেমিয়ান গ্রিন বলেছিলেন,বিদেশি মেধাবী ছাত্ররা ব্রিটেনের অর্থনীতির জন্যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিদেশি ছাত্রদের কারা ব্রিটেনে আসতে পারবে এবং কতদিনে এখানে অবস্থান করতে পারবে সে ব্যাপারে বিস্তারিত বিধান থাকা দরকার।
তিনি আরো বলেছিলেন, বর্তমান গৃহীত পদক্ষেপের পেছনে আমাদের লক্ষ্য হলো বিদ্যমান পদ্ধতির অপব্যবহার রোধ করা; বিশেষ করে তাদের জন্যে যারা নিম্নস্তরে এবং ফারদার এডুকেশনের প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হতে আসে।
তবে সাথে সাথে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউকের জন্যে যেসব ছাত্রের সর্বোচ্চ অবদান রাখবার সক্ষমতা আছে সেসব মেধাবী এবং দক্ষ ছাতদের আমাদের দেশে আমরা স্বাগতম জানাই।
এদিকে ইউকের মাইগ্রেশনওয়াচ এর চেয়ারম্যান স্যার এন্ড্রু গ্রিন বলেছেন, প্রফেসর এ্যাক্টনের প্রতিবেদনের পরিসংখ্যানগত দিক সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
তিনি দাবি করেন, ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত উচ্চশিক্ষার কলেজগুলোতে ভুয়া ছাত্র আনয়ন বন্ধ করতে সরকারের এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
‘মেধাবী ও দক্ষ’ ছাত্রদের জন্যে ব্রিটেনের দুয়ার উন্মুক্ত বলে তিনি জানিয়েছেন।