Khulna
November 21st, 2018
Your e-Mail / অভিমত
খুলনা জিলা স্কুলে ফের ভর্তি বাণিজ্য!
January 27th, 20114,526 views

ঐতিহ্যবাহী খুলনা জিলা স্কুলে বদলিজনিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছেলেদের ভর্তির আড়ালে ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও রাজনীতিকদের সন্তানদের ভর্তির চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা ভর্তি বাণিজ্য হবে বলে অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকার নোটিস ছাড়াই গোপনে গতকাল এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানা যায়, নিয়মানুযায়ী খুলনায় বদলি হয়ে আসা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১২৭ জন ছেলেকে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভর্তির জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং গতকাল তাদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২৭ জনের অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থীর অভিভাবক সরকারি চাকরিজীবী নন। তারা ব্যবসা, রাজনীতি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, খুলনা নগরীর মতি মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা হাফিজুর রহমানের ছেলে মো. এরশাদুল হক, ব্যবসায়ী ফারুকুল ইসলামের ছেলে রেদওয়ান হাসান ও ঠিকাদারি ব্যবসায়ী খসরুল আলমের ছেলে জিহাদ ইসলাম আদর পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হতে গতকাল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছে। মতি মসজিদের ইমাম মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, আমি বা আমার স্ত্রী সরকারি চাকরি করি না। অধ্যক্ষ আপার আশ্বাসের কারণে আমার ছেলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নন, এমন অভিভাকদের যেসব ছেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ভর্তি বাবদ ২০-২৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হবে। ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জানানো হবে কখন কাকে টাকা দিতে হবে। বিগত বছরগুলোতেও একই প্রক্রিয়ায় লাখ লাখ টাকা ভর্তি বাণিজ্য করা হয়েছে। তবে ভর্তি কমিটির সদস্য শিক্ষক মুন্সী সালাহউদ্দিন বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২৭ জনের অভিভাবক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কী না তা যাচাই-বাছাই করা হয়নি।

এ ব্যাপারে খুলনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মালেকা বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও ভর্তি কমিটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তবে সহকারী প্রধান শিক্ষক হোসনা হেনা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

ভর্তি কমিটির আরেক সদস্য খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছেলেদের পাশাপাশি কয়েকটি শ্রেণীর শূন্য আসনে কিছু ছেলেকে ভর্তি করা হবে। তবে আসন শূন্য আছে কী না তা জানা নেই। প্রসঙ্গত, খুলনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মালেকা বেগম ২০১০ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন শ্রেণীর সেশন চার্জ বাবদ অতিরিক্ত ছয় লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ টাকা গ্রহণ করেন। জেলা প্রশাসন তদন্ত করে ওই টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।