Chittagong
October 21st, 2018
মাটি ও মানুষের কৃষি
আদার সাথে সবজি চাষ
January 25th, 20134,842 views

আদার সাথে সবজি চাষ


আদা চাষের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে সবজি চাষ করেও লাভবান হওয়া সম্ভব। এমনটি করেই এলাকায় উৎসাহ জাগিয়েছেন কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার ইউনিয়নের মনসুরপুর গ্রামের গোলসান মিয়া। তিনি মাত্র ২০ শতক জমিতে আদা চাষ এবং আদার সাথে ডাঁটা শাক, ধুন্দল ও করলা চাষাবাদ করে আর্থিকভাবে সফলতা অর্জন করেছেন। চলতি বছরের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে আদা রোপণ করার ৮ মাসের মধ্যে এই সফলতা লাভ করেন তিনি।

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় ধান, মৌসুমী ফল, শাক-সবজি ও মসলা চাষাবাদে রয়েছে যথেষ্ট সম্ভাবনা। দু'ফসলি তিন ফসলি এসব জমিতে কৃষি বিভাগের নির্দেশনায় মৌসুম ভিত্তিক সঠিকভাবে চাষাবাদ এবং পরিচর্চা করে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এতে কৃষকদের মধ্যেও উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দেয়। বিগত কয়েক বছর কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কৃষি আবাদ শুরু করেছেন। এসব চাষাবাদের মধ্যে টমেটো, আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, লাউ, বেগুন, ঝিঙা, করলা ও বিভিন্ন ধরনের শাক উলেস্নখযোগ্য। মৌসুমী ফল আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, কলা, বাউকুল চাষাবাদে অনেকেই এগিয়ে আসলেও মসলা চাষাবাদে কৃষকদের মধ্যে তেমন সাফল্য দেখা যায়নি। অথচ মসলা চাষাবাদেও সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিলেও কৃষি বিভাগের সঠিক নির্দেশনা, উৎসাহ ও উদ্দীপনার অভাবে মসলা চাষাবাদে স্থবিরতা বিরাজ করছে। তবে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তার উৎসাহে

প্রাথমিকভাবে মাত্র ২০ শতক জমিতে আদা চাষাবাদ শুরু করে সাফল্য অর্জন করেছেন পতনউষার ইউনিয়নের গোলসান মিয়া। শুধু আদা চাষাবাদ করেই তিনি থেমে থাকেননি, আদা চাষকৃত একই জমিতে রোপণ করেন ডাঁটা শাক, ধুন্দল ও করলা। আদা চাষে ছায়ার প্রয়োজন হয় বলে তিনি ছোট রশি ও তার দিয়ে

মাচাং তৈরি করেন আর সেখানে করলা ও ধুন্দল চাষেও লাভবান হন। প্রথমে ডাঁটা শাক বিক্রি করে ৩ হাজার টাকা এবং পরে করলা ও ধুন্দল বিক্রি করে আরো ১১ হাজার টাকা আয় করেছেন বলে গোলসান জানান। তবে সরেজমিনে গিয়ে ওই মাচাং এ লাউ ঝুলে থাকতেও দেখা যায়। আলাপকালে গোলসান মিয়া বলেন, "ইউনিয়ন উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ মোতাবেক তিনি আদার চাষ করেন। বীজ, সার, ঔষধ এবং শ্রমিকের মজুরিসহ মোট খরচ হয় ২৬ হাজার টাকা। বর্তমানে জমি থেকে আদা তোলা শুরু করেছি এবং ওই জমি থেকে ২ লাখ টাকার আদা বিক্রি করতে পারব বলে আশা রাখি।"

আদা ছাড়া ওই জমিতে করলা ও ধুন্দল বিক্রি করে ১২ হাজার টাকা আয় করেছেন গোলসান মিয়া। তিনি চলতি বছরের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে সবজি চাষাবাদকৃত জমি পাশর্্ববতর্ী বাড়ির মোস্তফা মিয়ার কাছ থেকে লিজ নিয়ে আদা চাষাবাদ শুরু করেন। চলতি বছর এই এলাকায় নিয়মিত বৃষ্টিপাত থাকায় রোগের আক্রমণ ও মোকাবিলা করে তিনি আশাতীত আদা উৎপাদন করেছেন। তবে ক্ষোভ প্রকাশ করে আদা চাষি গোলসান বলেন, "সরকার মসলা চাষে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করছে। কিন্তু তিনি ব্যাংকে অনেক চেষ্টা করেও এই ঋণ সুবিধা ভোগ করতে পারেননি।" তিনি আরো বলেন, "ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা পেলে আরো বেশি জমিতে আদা চাষ করতে পারতেন। যুবক গোলসান মিয়ার আদা চাষে সাফল্য দেখে এলাকার অনেকেই এখন মসলা জাতীয় চাষাবাদে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। পতনউষার ইউনিয়ন উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র দত্ত জানান, দিন দিন এ এলাকাতে মসলা চাষিদের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এটা খুব ভাল লক্ষণ। এভাবে মসলা জাতীয় চাষে কৃষকরা এগিয়ে এলে তারা লাভবান হবে পাশাপাশি লাভবান হবে দেশ।

মো. নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, মৌলভীবাজার