Barisal
October 21st, 2018
মাটি ও মানুষের কৃষি
চলছে আলু চাষের মৌসুম
November 29th, 20104,373 views

চলছে আলু চাষের মৌসুম


আলুর এলাকা বলতে আগে রংপুর জেলাকেই বোঝাত। আজ আর সে কথা ঠিক নয়। বর্তমানে ঢাকা জেলাতেই দেশের মোট উৎপাদনের এক চতুর্থাংশের বেশি আলু উৎপাদিত হয়। তবে বগুড়া, দিনাজপুর, কুমিলস্না, সিলেট এবং চট্টগ্রামেও আলু উৎপাদন হয়। উত্তরাঞ্চলে মধ্য-কার্তিক ও দক্ষিণাঞ্চলে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে থেকে শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত আলু চাষের উপুযুক্ত সময়। দোঅাঁশ ও বেলে-দোঅাঁশ মাটি আলু চাষের জন্য উপযোগী।

আশ্বিন মাস হতে আলুর জমি প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়। জমির প্রকৃতিভেদে ৫/৬ চাষ ও বার কয়েক মই দিয়ে ভালভাবে পাইট করে চাষ করতে হয়। আলুর জমি গভীরভাবে চাষ করা উচিত। কোনো কোনো অঞ্চলে যেমন, ঢাকার মুন্সীগঞ্জ ও কুমিলস্না সদর এলাকার চাষিরা কোঁদাল ও লাঙলের দিয়ে জমি গভীরভাবে চাষ করে থাকেন। জমি শুধু গভীরভাবে চাষ করলেই হয় না, মাটি মোলায়েম ও ঝুরঝুরা করতে হয়। ঢেলাযুক্ত ও অাঁটসাট জমিতে আলুর বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

বীজ সব সময় শোধন করে নেওয়া ভাল। বীজ শোধনের জন্য মারকিউরিক ক্লোরাইড, ফার্মালডিহাইড অথবা ইয়েলো অক্সাইড অব মার্কারি ব্যবহার করা ভাল। উক্ত তরলগুলোতে আলুর বীজকে কিছুক্ষণ চুবিয়ে উঠিয়ে নিলেই বীজ শোধন হয়ে যায়। তবে কাটা বীজের ক্ষেত্রে বীজ কাটার সময় ধারালো ছুড়ি দিয়ে লম্বালম্বি কাটতে হবে; বীজের কাটা দিকটায় পরিষ্কার ঠাণ্ডা ছাই লাগিয়ে দিতে হবে। এই সমস্ত সাবধানতা অবলম্বন করলে বীজ পচে নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা কম থাকে।

কাটা বীজ আলুকে কিউরিং করে নিলেও উপকার পাওয়া যায়। কিউরিংয়ের জন্য কাটা বীজ আলুকে ৬০ থেকে ৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা ও ৮৫ থেকে ৯০% আদ্রতায় সপ্তাহ খানেক রাখলে বীজের কাটার তলে একটি আত্মরক্ষাকারী স্তর সৃষ্টি হয় যা বীজের মধ্যে রোগজীবাণুর প্রবেশ অনেকাংশে রোধ করে। তবে এইভাবে কিউরিং করা সাধারণ চাষিদের পক্ষে সম্ভব না হলেও বীজ আলুকে পাতলা স্তরে মেঝেতে ছড়িয়ে ভেজা চট দিয়ে কয়েকদিন ঢেকে রাখলে সুফল পাওয়া যাবে।

আলু বীজ সারিতে বপন করতে হয়। এক সারি হতে অন্য সারির দূরত্ব ৬০ সেমি রাখতে হবে এবং সারিতে এক বীজ হতে অন্য বীজের দূরত্ব হবে ২৩ থেকে ৩৮ সেমি। বীজ আন্তঃবপন করাই ভাল, তবে আকারে বেশি বড় হলে কেটে দু'ভাগ করে লাগান যায়। কেটে বপন করলে বীজের পরিমাণ কম লাগে অর্থাৎ আস্তঃবীজ ব্যবহার করলে যদি প্রতি হেক্টরে ১৫০০ কেজি লাগে সেক্ষেত্রে কর্তিত বীজ ব্যবহার করলে এর অর্ধেক অর্থাৎ ৭৫০ কেজি বীজ লাগবে।

সারি বরাবর ৫ থেকে ৭ সেমি মাটি সরিয়ে নিয়ে নালা প্রস্তুত করা হয়, তারপর নালাতে নির্দিষ্ট দূরত্বে বীজ বপন করে মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। আবার সারির মাটি না খুঁড়ে অর্থাৎ নালা না করে সারির দাগ বরাবর বীজ নির্দিষ্ট ব্যবধানে বপন করার পর দুই সারির মধ্যবর্তী জায়গা হতে মাটি টেনে উঁচু করে বীজ ঢেকে দেওয়া হয়। শেষের পদ্ধতিটিই বিজ্ঞানসম্মত।

দেশি আলু চাষে কৃষকরা জমিতে সেচের পানি ব্যবহার করতে চান না। কিন্তু অধিক ফলনশীল আলুর জাতে অধিক সার ব্যবহার করলে আলুর জমিতে পরিমাণ মত পানি ব্যবহার দরকার। সারিতে গাছের গোড়ায় মাটি উঁচু করে দেওয়ার ফলে যে নালার সৃষ্টি হয় তার মধ্যে পানি প্রবেশ করিয়ে দিলেই সারা ক্ষেত পানিতে ভিজে যায়। আলুর জমি সব সময় রসযুক্ত থাকবে সে জন্য আলুক্ষেতে নিয়মিত পানি সেচ দিতে হবে মাটির প্রকারভেদের উপর নির্ভর করে ২/৩ বার সেচ দিলেই চলবে।