Khulna
September 20th, 2018
Professionalism / পেশাদারি
শৈল্পিক পেশা ফটোগ্রাফি
November 21st, 20104,549 views

পড়াশোনা শেষ করার পর বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রী গতানুগতিক পেশার পেছনেই ছুটে থাকেন। এদের মধ্যে কেউ চাকরি করে প্রতিষ্ঠিত হন, আবার কেউবা বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকেন। এমন অনেক পেশা আছে যেখানে গতানুগতিক চাকরি থেকে ভালোভাবে উপার্জন ও সম্মান আদায় করা সম্ভব। এরকমই একটি পেশা হলো ফটোগ্রাফি। এ পেশায় নিজের দক্ষতার পাশাপাশি শৈল্পিক জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। বর্তমানে এই পেশার যথেস্ট চাহিদা রয়েছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া। সেই সঙ্গে বাড়ছে অনলাইন পত্রিকার পরিধি। ফলে এসব ক্ষেত্রে সৃষ্টি হচ্ছে ফটোগ্রাফারদের কর্মসংস্থান। পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি ব্যবহারিক বিদ্যারও প্রয়োজন আছে। এ দুটি সমন্বয়ে যে কেউ গড়তে পারেন ফটোগ্রাফার হিসেবে নিজের ভবিষ্যৎ। ফটোগ্রাফার হতে হলে যেসব বিষয়ে পড়াশোনা করে হাতে কলমে শিখে দক্ষ হতে হবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: বেসিক কোর্স অন ফটোগ্রাফি, স্টুডিও ফটোগ্রাফি, ডাকযোগে ফটোগ্রাফি, ডিপ্লোমা ইন ফটোগ্রাফি, ডিপ্লোমা ইন ফটো জার্নালিজম, বেসিক কোর্স অন ভিডিওগ্রাফি, বেসিক কোর্স অন ফটো এডিটিং ইত্যাদি। পাশাপাশি বিভিন্ন ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি কর্মশালায় অংশগ্রহণ করা জরুরি। নিম্নে এরকম কিছু কোর্স সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

স্টুডিও ফটোগ্রাফি : যারা স্টুডিও ফটোগ্রাফি পেশায় আসতে চায় তাদের জন্য এই কোর্স। এই কোর্সের মাধ্যমে শেখা যায় কিভাবে ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি তোলা হয়। সেই সঙ্গে পাসপোর্ট ছবি তোলা, স্টুডিও লাইটিং টেকনিক্স, ইনডোর আউটডোর ছবি তোলা, বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি তোলা সম্পর্কে সম্মক ধারণা পাওয়া যায়।

বেসিক কোর্স অন ফটোগ্রাফি : ফটোগ্রাফি সম্পর্কে যারা কিছুই জানেন না মূলত তাদের জন্য এই কোর্স। এই কোর্সে প্রশিক্ষণার্থীদের ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি তোলা, ফ্রেমিং ও কম্পোজিশন, দিনে ও রাতে ছবি তোলার এক্সপোজার, ফ্লাশ ফটোগ্রাফি, স্টুডিও লাইটিং টেকনিকস এবং এক্সপোজার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

ভিডিওগ্রাফি কোর্স : যারা স্যাটেলাইট চ্যানেলে কিংবা ফ্রিল্যান্স ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য এই কোর্সটি উপযুক্ত। এই কোর্সের মাধ্যমে এইচডিভি এবং ডিভিক্যাম ক্যামেরা অপারেশন, শুটিং টেকনিকস, ফ্রেমিং এন্ড কম্পোজিশন, ইনডোর-আউটডোর শুটিং, স্টুডিও লাইটিং টেকনিকস, বিভিন্ন শট, সাইজসহ নানা বিষয়ে জানা যায়।

ডিপ্লোমা ইন ফটোগ্রাফি : এটি একটি প্রফেশনাল কোর্স। এই কোর্সে অংশগ্রহণ করতে চাইলে থাকতে হবে একটি এসএলআর ক্যামেরা। ফটোগ্রাফি সম্পর্কে যাদের বেসিক জ্ঞান রয়েছে তারা এই কোর্সে যোগ দিতে পারেন। কোর্সে শেখানো হবে ডিজিটাল ক্যামেরা অপারেশন, ফটো এডিটিং, প্রোট্রেট ফটোগ্রাফি, শিশুদের ছবি তোলা, মডেল ফটোগ্রাফি, ল্যান্ডস্কেপ ফটোগ্রাফি, ক্রাইম ছবি তোলা, সেমিনারের ছবি তোলা, ক্যানডিড ফটোগ্রাফি। মূলত বাণিজ্যিক চিন্তাধারা যাদের রয়েছে তাদের জন্য এই কোর্সটি উপযুক্ত।

ডিপ্লোমা ইন ফটো জার্নালিজম : যারা সংবাদপত্রে ফটো সাংবাদিক হতে চান তাদের জন্য এই কোর্সটি প্রযোজ্য। এই কোর্সে শেখানো হয় স্টিল লাইফ ফটোগ্রাফি, ফ্লাশ ফটোগ্রাফি, খেলাধুলার ছবি তোলার টেকনিকস, ক্যানডিড ফটোগ্রাফি, দুর্ঘটনার ছবি তোলা, মিছিল ও সেমিনারের ছবি তোলা, সিল্যুট ফটোগ্রাফি, ফটো এডিটিংসহ নানা বিষয়। এই কোর্স শেখার জন্য থাকতে হবে একটি ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরা।

মডেল ফটোগ্রাফি : বর্তমান সময়ে মডেল ফটোগ্রাফারের অনেক চাহিদা রয়েছে। তাদের জন্য উপযুক্ত এই ফটোগ্রাফি। এতে মডেল ফটোগ্রাফির লাইটিং, মেকাপ, মডেলের পোশাক-পরিচ্ছদ, মডেলের ফটোসেশন এবং ফটো এডিটিং সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করা যায়।

বেসিক কোর্স অন ফটো এডিটিং : যাদের ছবি তোলা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ রয়েছে তারাই এই কোর্সে অংশগ্রহণ করতে পারেন। এই প্রশিক্ষণার্থীদের ফটো এডিটিংয়ের বিভিন্ন টুলস, ক্রপ করা, কালার কারেকশন ও কম্পোজিশন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ শেষে যে কেউ গড়তে পারে মিডিয়ায় উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।

ক্যারিয়ারের সুযোগ : প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় একজন ফটোগ্রাফারের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। দিনে দিনে এরকম প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আমাদের দেশে বেড়েই চলেছে। ফলে বাড়ছে ফটোগ্রাফারদের কর্মসংস্থান। যে কেউ ফটোগ্রাফার হিসেবে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে পারেন। সে জন্য সবার আগে প্রয়োজন সৃষ্টিশীল ও শৈল্পিক মন। আমাদের দেশে ফটোগ্রাফি শিখার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফটোগ্রাফির ওপর বিভিন্ন কোর্স ও ডিগ্রি চালু করেছে। তাই গতানুগতিক চাকরির আশায় বসে না থেকে ফটোগ্রাফার হিসেবে যে কেউ গড়তে পারেন নিজের ক্যারিয়ার।