Barisal
November 17th, 2018
Kids Corner
শিশুর জন্যঃ
November 8th, 20103,486 views

Kids

শিশু বলতে প্রথমেই যে শব্দটি মাথায় আসে তা হলো দুরন্তপনা। সাধারণত তারা হয় কিছুটা চঞ্চল প্রকৃতির। সেইসাথে একবাক্যে বলা যায়, শিশুরা তীক্ষ্ম বুদ্ধিরও অধিকারী। কিন্তু সাধারণত এসব ভাবাবেগ, নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস গড়ে উঠতে তাদের কিছুটা সময় লেগে যায়। আর এ সময়টাতে সবথেকে বেশি প্রয়োজন মা-বাবার পরিচর্যা, আদর ও শাসন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় শিশুদের এ দুরন্তপনা অনেক মা-বাবার বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে। আবার অনেক সময় তারা বুঝে ওঠে না যে, কিভাবে তাদের শিশুদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আর নব্য মা-বাবার ক্ষেত্রে সেটা কাজ করে বেশি। তারা ভাবতে থাকে শিশুদের পরিচর্যার তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে। সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই আমাদের এই আয়োজন, শিশুদের পরিচর্যা।

প্রথমেই তাদের নিয়মানুবর্তিতা শেখানোর জন্য কিছু টিপস-

একসূত্রে গাঁথা

শিশুদের এটা বুঝতে দেওয়া যে, তারা যে পরিবারে জন্ম নিয়েছে সে পরিবার পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত। তাতে করে বাচ্চারাও অনেক সময় কোনো কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। কারণ শিশুরা হয় অনুকরণপ্রিয়। এ শিক্ষা তাদের মনে সহমর্মিতার প্রবণতা জাগিয়ে তোলে।

শ্রদ্ধাবোধ

প্রায়ই দেখা যায়, মা-বাবা ও শিশুদের একে অপরের প্রতি অভিযোগ যে, তারা কথা শোনে না অথবা তাদের গুরুত্ব দেয় না। ব্যাপারটা শিশুদের কচি মনে প্রভাব ফেলে। সেজন্য এমন আচরণ করা উচিত, যাতে তাদের মনে হয় তাদের গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, তারা যদি কোনো কথা বলতে চায়, তবে হাতের কাজ ফেলে তাদের কথা শোনা উচিত। এমনটা করলে পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকেও একই আচরণ আশা করা যেতে পারে।

নীতির শিক্ষা

শিশুদের মানসিকভাবে শক্ত করে গড়ে তোলার সব থেকে ভালো পন্থা, তাদের নীতির শিক্ষা দেওয়া। তাদের পছন্দের টুকিটাকি জিনিস কিনে আনা। এতে তাদের মনে হবে শুধু দরকারের সময়ই তাদের কথা মনে হয়না।' মা-বাবা আসলেই তাদের কথা ভাবে। এভাবে তাদের মধ্যে একটা নীতি বোধের জন্ম নেবে।

জীবন সবসময় আনন্দদায়ক নয়

আমরা আমাদের শিশুদের নিয়ে অনেক টেনশনে থাকি যে, কখন তাদের মন খারাপ হলো। কোনো ঘটনায় তারা আঘাত পেল কি-না। কিন্তু এভাবে না ভেবে আমরা যদি তাদের পরিস্থিতির সাথে কিভাবে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে হয় সে শিক্ষা দিতে পারি। এরফলে তারা পরবর্তী জীবনে সুখের সাথে সাথে দুঃখকে মোকাবিলা করতে পারে। কারণ, আমাদের জীবন সবসময় আনন্দময় হয় না।

আমরা সবসময় চাই আমাদের সন্তানরা ভালো থাকুক। কিন্তু এই চাওয়া পূরণ করতে গিয়ে আমরা প্রতি পদেপদে বলে দেই কি করতে হবে, কি করা উচিত নয়। কিন্তু এমনটা না করে যদি আমরা তাদের ভালো খারাপের শিক্ষা দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজটা তাদের উপরে ছেড়ে দিই, তাহলে ধীরে ধীরে তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে ওঠে। তবে অবশ্যই তাদের একেবারে ছেড়ে দেওয়া ঠিক না। তারা কি করছে সেদিকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে।

আর একটা ব্যাপার অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে, বারবার নিয়মকানুন পাল্টানো হলে শিশুরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। এজন্য তাদের প্রথম থেকেই খুব হিসেব করে শিক্ষাদান করতে হবে। মনে রাখতে হবে, মা-বাবার শিক্ষা, সাহায্য ও উৎসাহদানের মাধ্যমে শিশুকে সমাজের দায়িত্ববান ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।