Khulna
September 20th, 2018
Tourism / ভ্রমণ
যশোর ভ্রমণ
November 16th, 20103,910 views

হাজী মুহাম্মদ মুহসিনের ইমামবারা

সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নে অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো মুড়ালি ইমামবারা। এটি প্রতিষ্ঠা করেন হাজী মুহাম্মদ মুহসিন। ইট নির্মিত আয়তাকার ভবনটি উত্তর-দক্ষিণে ৬০ ফুট ও পূর্ব-পশ্চিমে ৫০ ফুট। ভেতরের অংশ ১০টি পিলার দ্বারা ৩ সারিতে বিভক্ত। পিলারের পলেস্তারার উপর কালো কালি দিয়ে আরবি লিপিতে আলস্নাহ, হাসান, হোসেন লেখা দৃষ্টিনন্দন ক্যালিগ্রাফি রয়েছে। আশুরা উপলক্ষে প্রতিবছর ১০ মহররম এখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য তাজিয়া মিছিল বের হয়।

ভরত ভায়না

জেলার কেশবপুর উপজেলা থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বুড়িভদ্রা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত একটি প্রত্নস্থল ভরত ভায়না। প্রায় ১২.২০ মিটার উঁচু এ জায়গাটি প্রায় ২৫০ মিটার দীর্ঘ। ১৯২২ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। পাঁচ শতকের প্রাচীন একটি বৌদ্ধমন্দির আছে এখানে। ধারণা করা হয়, ভরত নামের কোনো এক পৌরাণিক রাজা কর্তৃক এ মন্দিরটি নির্মিত।

ভরত রাজার দেউল

ভরত ভায়না থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দক্ষিণে গৌরিঘোনা গ্রামে রয়েছে ভরত রাজার বাড়ি হিসেবে পরিচিত প্রাচীন কিছু স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ। ১৯৫৮ সাল থেকে কয়েকবার খননের ফলে এখানে একটি প্রাচীন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ উম্মোচিত হয়।

স্থানীয় যাতায়াত ব্যবস্থা : যশোর থেকে সাতক্ষীরাগামী বাসে নামতে হবে চুকনগর। সেখান থেকে রিকশা কিংবা সাইকেলে চড়ে যাওয়া যাবে গৌরিঘোনা।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি

যশোর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে কপোতাক্ষ নদের তীরে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি এ বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেন। কয়েকটি পুরোনো দ্বিতল ও একতলা ভবন আছে এ বাড়িতে। বর্তমানে এ বাড়িতে একটি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জাদুঘরে আছে কবি পরিবারের ব্যবহূত খাট, আলমারি, চেয়ার-টেবিলসহ নানান আসবাবপত্র। দত্ত বাড়ির মধুসূদন একাডেমিতেও প্রদর্শিত হচ্ছে কবির স্মৃতিময় নানান নিদর্শন। কবির জন্মদিনে প্রতিবছর সাগরদাঁড়িতে বসে লোকজ মেলা_মধুমেলা। নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন থাকে এ মেলাকে ঘিরে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের একটি মোটেলও আছে সাগরদাঁড়িতে।

স্থানীয় যাতায়াত ব্যবস্থা :যশোর থেকে সড়কপথে সরাসরি সাগরদাঁড়ি যাওয়া যায়। শহর থেকে বাস ভাড়া ৩৫-৪০ টাকা।

কেশবপুরের কালোমুখ হনুমান

জেলার কেশবপুর উপজেলার বহু পুরোনো ঐতিহ্য কালোমুখ হনুমান। কেশবপুরের বিভিন্ন জায়গায় এসব হনুমান মানুষের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করে।

নকশিকাঁথার গ্রাম পান্থপাড়া

যশোর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে খাজুরা বাজারের কাছেই একটি গ্রাম পান্থপাড়া। এখানে গেলে পুরো গ্রামজুড়ে চোখে পড়বে কর্মব্যস্ত গৃহবধূদের_সুঁই-সুতা দিয়ে সূক্ষ্ম হাতে লাল-নীল কাঁথার জমিনে যারা ফুটিয়ে তোলেন বাংলার রূপ আর সংস্কৃতি।

জামতলার রসগোলস্না

যশোরের শার্শা উপজেলার জামতলার রসগোলস্নার সুনাম দেশজোড়া। সাদেক গোলস্না নামেও অনেকে জানেন মুখরোচক এ মিষ্টান্নকে। প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে জামগাছের নিচে একটি বাজার গড়ে ওঠে এ এলাকায়। ঐ জামগাছের নিচেই ছিল সাদেক আলীর চায়ের দোকান। জনশ্রুতি আছে, সাদেক আলীর কাছে কিছু সময়ের জন্য আশ্রয় নেয়া এক আগন্তুক তাকে এই মিষ্টান্ন তৈরির পদ্ধতি শিখিয়ে দেন। দিনে দিনে তার রসগোলস্নার সুনাম যশোর ছাড়িয়ে দেশের আনাচে কানাচে পৌঁছে যায়। সাদেক আলী বেঁচে নেই। জামতলা বাজারে এখন প্রায় পনের জন মিষ্টি ব্যবসায়ী তৈরি করে চলছেন সাদেক আলীর উদ্ভাবিত সেই রসগোলস্না।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সড়ক ও আকাশপথে যশোর যাওয়া যায়। আবার, ঢাকা থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে খুলনা হয়েও যশোর যাওয়া যায়। ঢাকার গাবতলী, কল্যাণপুর, কলাবাগান থেকে গ্রিন লাইন পরিবহন (৮৩৫৩০০৪-৫), সোহাগ পরিবহন (৯৩৪৪৭৭), ঈগল পরিবহন (৮০১৭৬৯৮), শ্যামলী পরিবহনের (৯১৪১০৪৭) এসি বাস যশোর যায়। এছাড়াও হানিফ, শ্যামলী, সোহাগ, ঈগল ইত্যাদি পরিবহনের নন-এসি বাসও যায় যশোর। ভাড়া ২০০-৩০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

শহরের কেশবলাল সড়কে হোটেল হাসান ইন্টারন্যাশনাল (০৪২১-৬৭৪৭৪, এসি একক কক্ষ ৫০০ টাকা, এসি দ্বৈত ৭০০ টাকা)। এম কে রোডে হোটেল আর এস (০৪২১-৬২৬১৭, নন-এসি একক ২৫০ টাকা, নন-এসি দ্বৈত ৫০০ টাকা, এসি একক ৫০০, এসি দ্বৈত কক্ষ ৮০০ টাকা)। গাড়ীখানা সড়কে হোটেল ম্যাগপাই (০৪২১-৬৬১৪১, নন-এসি একক ২৫০ টাকা, নন-এসি দ্বৈত ৪০০ টাকা, এসি একক ৩৫০, এসি দ্বৈত ৫০০ টাকা)। মিউনিসিপ্যাল রোডে হোটেল মিডটাউন (০৪২১-৬৬৫০১, নন-এসি একক ১৩০ টাকা, নন-এসি দ্বৈত ১৮০ টাকা, এসি একক ৪৮৫ টাকা, এসি দ্বৈত ৭৫০ টাকা)। কাপুড়িয়া পট্টিতে হোটেল নয়ন (০৪২১-৬৬৫৩৫, নন-এসি একক ১০০ টাকা, নন-এসি দ্বৈত ১৮০ টাকা, এসি দ্বৈত ৬০০ টাকা)।