Rajshahi
September 20th, 2018
Politics / রাজনীতি
কেন বিধবা হলাম?
October 20th, 201011,870 views

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উৎসাহিত হয়ে খুনিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সম্প্রতি রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ নূর বাবুর স্ত্রী মহুয়া নূর কচি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'বাবুর কী অপরাধ? আজ আমি কেন বিধবা হলাম? আমার তিন মেয়ে কেন এতিম হলো। এর জবাব কে দেবে?'

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে এ প্রশ্ন তোলেন।

লিখিত বক্তব্য পাঠকালে কয়েকবার তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার আবেগময় বক্তব্য ও প্রজেক্টরের মাধ্যমে বাবুকে নৃশংসভাবে হত্যার দৃশ্য দেখানোর সময় বাবুর তিন মেয়ে সানজিদা নূর পুনম, সাদিয়া নূর পরমা, সুরাইয়া নূর উপমাসহ সংবাদ সম্মেলনে আগত সবার চোখেই পানি লক্ষ্য করা যায়। বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ন্যায়বিচারের জন্য হুমকি। খুনের ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্যই প্রধানমন্ত্রী এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়েছেন। খুনি আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে আইন ও গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা থাকবে না। বিএনপি মহাসচিব আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে বলেন, 'খুনও করেন আপনারা, আবার তদন্তও বাধাগ্রস্ত করেন আপনারা। খুনের বিচার না করে সরকার ফাঁসির আসামিদের মুক্তি দিচ্ছে।' মহুয়া নূর বলেন, প্রকাশ্যে দিবালোকে শিয়াল-কুকুরের মতো বাবুকে পিটিয়ে হত্যার পরও তাদের গ্রেফতারে স্থানীয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এটা কেমন গণতন্ত্র ও আইনের শাসন? অথচ সরকারি দলের নেতাদের মুখে শোনা যায়, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এটাই কি তাহলে গণতন্ত্রের নমুনা। মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ায় কী বাবুর অপরাধ? প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডকে নির্মম, নিষ্ঠুর, নির্দয়, পাশবিক, অমানবিক কোন নামে বিশেষায়িত করবেন আপনি? ওই ঘটনায় ন্যায়বিচার দাবি করে মহুয়া নূর অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। উল্লেখ্য, ৮ অক্টোবর বাবু হত্যার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ অক্টোবর শ্রমিকলীগের এক অনুষ্ঠানে ওই ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করে বলেন, মুখোশের আড়ালেই তারা খুন খারাবি করে, আবার অন্যের ওপর দোষ চাপায়। নাটোরের ঘটনা যে তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নয় তারই বা প্রমাণ কি?

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন নাটোর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। লিখিত বক্তব্যে মহুয়া নূর আরও বলেন, বাবুকে কারা হত্যা করেছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী তা মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসী জেনেছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী মনগড়া বক্তব্য দিলেন। তিন মেয়েকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের পর বড়াইগ্রাম উপজেলার বিএনপির নেতা-কর্মীরা উৎকণ্ডায় দিন যাপন করছে। হত্যাকারীরা নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে অভিযোগ তুলে নিতে। তিনি বলেন, নিরাপত্তাহীনতার কারণে তার মেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। বাবু হত্যার পর ৪৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেও মাত্র একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, রিজভী আহমেদ, আবদুস সালাম, খায়রুল কবীর খোকন, শিরিন সুলতানা, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ ওইদিন বড়াইগ্রাম উপজেলায় আহত বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।