Dhaka
September 20th, 2018
Politics / রাজনীতি
তেজগাঁও রেলওয়ের জমি দখল করে অবৈধ মার্কেট
October 1st, 20104,497 views

রাজধানীর তেজগাঁও বিজয় সরণি সংযোগ সড়ক সংলগ্ন রেলওয়ের প্রায় ৭ বিঘা জমি দখল করে অবৈধ মার্কেট গড়ে তুলছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। শতাধিক দোকানের ভিত্তিপ্রস্তর ঠিক করে দেয়াল নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে তারা দোকান বরাদ্দ দেওয়াও শুরু করেছেন। এসব দোকান বরাদ্দের নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। দখল পাকাপোক্ত করতে দখলদার চক্রটি মোট দোকানের ৭০ ভাগ আওয়ামী লীগ ও ১০ ভাগ বিএনপি নেতা-কর্মীদের এবং ২০ ভাগ এলাকার মাস্তানদের মাঝে বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। এ জমি দখলদাররা রেলওয়ে থেকে বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করলেও রেল কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছেন। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অর্ধেক দোকানের বরাদ্দ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বরাদ্দ বাবদ দোকান প্রতি ৭০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

তেজগাঁও এলাকাবাসী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তেজগাঁও এলাকায় রেলওয়ের অনেক জমি বেদখল হয়ে আছে। রেলওয়ে এখন এসব জমি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। সর্বশেষ ২০০৮ সালে এলাকার প্রভাবশালী ও বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত আবদুল খালেক ও ফজলুল হক ওই এলাকার রেলওয়ের জমি দখল শুরু করে। এখন তাদের দখলে ওই এলাকায়ই রয়েছে প্রায় ১৫ বিঘা। বিজয় সরণি সংযোগ সড়কের দক্ষিণ পার্শের প্রায় ৭ বিঘা জমি দখলে নিয়ে পাকা দোকান তৈরি শুরু করে তারা। এ জমিতে রেলওয়ে বৃক্ষরোপণ করেছিল এবং অসহায় কিছু মানুষ বস্তিঘর করে বসবাস করত। দখলদাররা বৃক্ষ নিধন ও বস্তি উচ্ছেদ করে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে। মহাজোট ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে দল পাল্টিয়ে খালেক ও ফজলু এখন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের দহরম মহরম। ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড যুব লীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল কাদের ও তেজগাঁও থানা যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী শামীমা আক্তারকে ১টি করে দোকান দেওয়া হচ্ছে। তারা মার্কেটের কাজের অগ্রগতির সার্বিক খোঁজ খবর নিচ্ছেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সরেজমিন গিয়ে মার্কেট নির্মাণ স্থলে শামীমা আক্তারের সঙ্গে দেখা হয়। শামীমা আক্তার মার্কেটের প্রসঙ্গে বলেন, খালেক ও ফজলু ভাই বলেছেন বরাদ্দ এনেছেন। কাগজপত্র দেখেননি। একই ভাবে আবদুল কাদের বলেন, খালেক ও ফজলু ভাই বলছেন রেলওয়ে থেকে বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। তাদের কাছে কাগজপত্র আছে। তারা আমাদের সঙ্গে রাখতে চাচ্ছে, নিজের খরচ দিয়ে দোকান করে নিতে হচ্ছে।

এলাকাবাসী এ জমিতে একটি কমিউনিটি সেন্টার ও গার্ডওয়াল নির্মাণের দাবি জানাচ্ছে দীর্ঘদিন। গত ৩০ জুন এলাকাবাসী যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেন। গত ২০ জুলাই তেজগাঁও রেলওয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকৌশল শাখায় এলাকাবাসীর দাবির সপক্ষে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীর দাবি বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে ফজলুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রেলওয়ে থেকে বরাদ্দ এনে মার্কেট করছি। ২০০৮ সালে বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। সেই থেকে বার্ষিক রাজস্ব পরিশোধ করা হচ্ছে। বরাদ্দ দেওয়ার পরও রেলওয়ে কয়েকবার আমাদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা করেছে। চলতি মাসে উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে রেলওয়ের বিভাগীয় (ঢাকা) ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা আহমাদুল হক গতকাল বলেন, তেজগাঁওয়ে রেলওয়ের জমিতে যে মার্কেট নির্মিত হচ্ছে সেটা সম্পূর্ণ অবৈধ। রেলওয়ে থেকে ওই জমি কাউকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। তিনি বলেন, অবৈধভাবে জমি ব্যবহার করায় ২০০৮ সালে একবার তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছিল। আদালতের স্থগিতাদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, ভুয়া চুক্তিপত্র বানিয়ে অনেক দখলদারই আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসছে। আমরা আদালতের মাধ্যমে আবার সে সব স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। দখলদার যত কৌশলী হোক না কেন তাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে।