Khulna
January 21st, 2018
Tourism / ভ্রমণ
দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে রেল সম্প্রসারণে ১৬৮৪ কোটি টাকার প্রকল্প
September 26th, 20104,245 views

দীর্ঘদিন পর রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সম্প্রসারণে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে পশ্চিমাঞ্চল রেলের সৈয়দপুর-চিলাহাটি রেলপথ সংস্কারে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এ কাজে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৩ কোটি ৬৮ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এমএপিএল নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করবে। অপরদিকে পশ্চিমাঞ্চল রেল সম্প্রসারিত করে খুলনা থেকে মংলা বন্দর পর্যন্ত রেলসংযোগ স্থাপনের জন্য উন্নয়ন প্রকল্পের একটি প্রস্তাব যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে এই সম্প্রসারণের জন্য রেলসংযোগ স্থাপনের কাজ শুরু হয়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের মধ্যে শেষ হবে। এ জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৬৮৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাজ শেষ হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।


 

Train


পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মামনুর রশীদ জানান, খুলনা থেকে মংলা বন্দর পর্যন্ত নতুন রেলসংযোগ স্থাপনের জন্য ২০০৯ সালের আগস্টে একটি প্রকল্প যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে দাখিল করে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে। এটি বাস্তবায়নে এক হাজার ২৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ ইঞ্জিনিয়ার আমজাদ হোসেন জানান, খুলনা থেকে মংলা বন্দর পর্যন্ত নতুন রেলপথটি খুলনার ফুলতলা, দৌলতপুর, সোনাডাঙ্গা, খানজাহান আলী, সদর, বালিয়াঘাটা ও বাগেরহাটের ফকিরহাট, সদর, রামপাল হয়ে মংলায় যাবে। এ প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাজ শেষ হলে মংলা বন্দরের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ সহজেই গড়ে উঠবে। এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনা গড়ে উঠবে।

প্রকল্পের প্রস্তাব অনুযায়ী খুলনা থেকে মংলা বন্দর পর্যন্ত নতুন ৫৩ কিলোমিটার প্রধান রেলপথ ও ১১ কিলোমিটার লুপ লাইন (পাশের পথ), লেভেল ক্রসিং গেট, বাঁকা পথে চিহ্ন বসানো ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৫ কোটি ১৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা। গুরুত্বপূর্ণ ও ছোটখাটো সেতু নির্মাণ এবং অপসারণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬০ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। এক হাজার ৩০০ বর্গমিটার স্টেশন ভবন, ছয় হাজার ৫০ বর্গমিটার প্লাটফর্ম, এক হাজার ৮০০ বর্গমিটার প্লাটফর্ম শেড, ৫০০ বর্গমিটার গাড়ি পার্কিং এলাকা, এক হাজার বর্গকিলোমিটার অ্যাপ্রোচ রাস্তা, দুই হাজার ৫০ মিটার ড্রেন, নয় হাজার বর্গকিলোমিটার স্টেশন বেষ্টনী দেয়াল, এক হাজার ৬০০ বর্গমিটার আবাসিক ভবন, বৈদ্যুতিক কাজ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, টিএক্সআর অফিস, লোকো শেডসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬৮ কোটি তিন লাখ ১৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া সিগন্যাল সিস্টেম, পাঁচটি স্টেশনে লেভেল ক্রসিং গেট নির্মাণে ব্যয় হবে তিন কোটি এক লাখ টাকা।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আনহার মাহমুদ জানান, রেলওয়ে এখন সরকারের লাভজনক একটি খাতে পরিণত হয়েছে। কম খরচে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে বিলাসবহুল ভ্রমণের কারণে দিন দিন রেলে যাত্রীসংখ্যা বেড়েই চলেছে। তাদের কথা বিবেচনায় ও যোগাযোগব্যবস্থার আরো উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণের জন্যই এ পরিকল্পনা।