Chittagong
August 21st, 2018
Business / শিল্প-বাণিজ্য
জাহাজ রপ্তানিতে আরেক ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ
November 26th, 20103,105 views

'গ্রোনা অ্যামারসাম' ও 'গ্রোনা বিয়েস্সাম'। 'মেইড ইন বাংলাদেশ' লেখা এ জাহাজ দুটি পণ্যবোঝাই করে সাগরের বুকচিরে ছুটে চলবে বিশ্বের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে। চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্নর্ মেরিন শিপইয়ার্ড গতকাল শুক্রবার সকালে জাহাজ দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে জার্মান মালিকের কাছে হস্তান্তর করে। এর মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে সমুদ্রগামী বৃহৎ জাহাজ রপ্তানি করে এ শিল্পের ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করল বাংলাদেশ। সরকারি আনুষ্ঠানিকতা শেষে দু-এক দিনের মধ্যেই জাহাজ দুটি বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা।


৩৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জাহাজ দুটি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন জার্মানির ফেডারেল ফরেন অফিসের এস্টেট সেক্রেটারি মার্টিন ভ্যাসেল ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত হলগার মাইকেল। চট্টগ্রাম ড্রাই ডকে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম জাহাজ দুটি গ্রোনা শিপিং জার্মানির প্রতিনিধি মার্কু ভেডরের কাছে হস্তান্তর করেন।


অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, 'একটি শতভাগ রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাণ অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে প্রতি বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা।' তিনি জানান, ২০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় জাহাজ নির্মাণ খাতে অর্থসহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে।


মার্টিন ভ্যাসেল বলেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্পে এটি বাংলাদেশের জন্য বিশাল সফলতা। এর মাধ্যমে জার্মানির বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আরো উৎসাহিত হবেন।


ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ''আমরা অপ্রতুল সম্পদ, ব্যাপক সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতা সত্ত্ব্বেও বৃহদাকারের জাহাজ নির্মাণ করে অসম্ভবকে সম্ভব করেছি। পরিশ্রমী জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বে আমাদের সুনাম বৃদ্ধি করতে পেরেছি। জাহাজ দুটি 'মেইড ইন বাংলাদেশ' এ ফলক ধারণ করে বহির্বিশ্বের সমুদ্রসীমায় বিচরণ করবে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের সমৃদ্ধি ও দক্ষতার স্বাক্ষর বহন করবে।"


ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আগামী ছয় বছরের মধ্যে দেশের জিডিপি ৩ শতাংশ বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে জাহাজ নির্মাণ শিল্প। সেই সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে এ শিল্প। যখন দেশের অন্য শিল্পগুলো বিশ্ববাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন, সেখানে জাহাজ নির্মাণ শিল্প নীরবে ও নিশ্চিতভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।


জাহাজ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ১০০ মিটার লম্বা ও পাঁচ হাজার ২০০ টন ধারণক্ষমতার আইস-ক্লাস মাল্টিপারপাস জাহাজ দুটি ওয়েস্টার্নর্ মেরিন শিপইয়ার্ড একসঙ্গে তৈরি করেছে। জাহাজ দুটি অত্যাধুনিক আইএমও সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসারে এবং জার্মানিশিয়্যার লয়েডের নিবিড় তত্ত্বাবধানে নির্মিত। ই-৩ আইস-ক্লাস ভ্যাসেল হিসেবে অনুমোদিত জাহাজ দুটি হিমশীতল ও প্রতিকূল পরিবেশে স্বচ্ছন্দে চলাচলে সক্ষম। ওয়েস্টার্নর্ মেরিন শিপইয়ার্ডের কর্মকর্তারা আরো জানান, জার্মানির গ্রোনা শিপিংয়ের জন্য আরো ১০টি জাহাজ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথম দফায় এ দুটি জাহাজ হস্তান্তর করা হলো।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্টের পরিচালক জালাল খালেদ, প্রকল্প পরিকল্পনা সম্পন্নকারী ইস্ট উইন্ড জার্মানির লারস ব্রেনেকি।